Thursday, October 25, 2018

আজ বাংলাদেশ টেনিসের বিস্ময় বালক জুয়েল রানার জুন্মদিন

শরীফুল ইসলাম আরশ || সূচিপত্র নিউজ ||

আজ বাংলাদেশ টেনিসের বিস্ময় বালক জুয়েল রানার জন্মদিন। কে এই জুয়েল রানা? হয়তো অনেকেই চিনবেন না এই জুয়েল রানাকে। কারণ সে কোন ক্রিকেট কিংবা ফুটবলের খেলোয়ার নয়। তবে ক্রিকেট ছাড়াও যে অন্য খেলায় বাংলাদেশ শিরোপা জয় করছে সেটা খেলা জনপ্রিয়তা না থাকা ও মিডিয়ার প্রচার খুব বেশি না থাকার কারণে আমরা জানতে পারিনা। অথচ বাংলাদেশ টেনিসে সাতটি দেশের সাথে খেলে এক অনন্য জয় তুলে বাংলাদেশকে শিরোপা তুলে দেন জুয়েল রানা। অথচ অথচ আমরা অনেকেই জানিনা। জুয়েলের ঘরোয়া ক্লাব এলিট টেনিস একাডেমি। এটিএন বাংলার একটি টুর্নামেন্টে এবং ওয়ালটনের একটি টুর্নামেন্টে এককে চ্যাম্পিয়ন হয়। এছাড়া ৩টি টুর্নামেন্টে হয় রানারআপ। শুধু তাই নয় জুয়েল রানা টেনিসে বিভিন্ন ইভেন্ট খেলা, বিভাগীয় খেলাসহ দেশে এবং ইতিমধ্যে টেনিকে দেশের বাহিরেও নিয়ে গেছেন। এ বছরই জুয়েল দেশের বাহিরে দুটি দেশে বাংলাদেশের হয়ে টেনিসের লড়াই করে এসেছেন।

টেনিস খেলোয়ার জুয়েল রানা

বলছিলাম জুয়েল রানার কথা। জুয়েল চাঁদপুর জেলার কচুয়া থানাস্থ অভয়পাড়া গ্রামের জমীর উদ্দিন মোল্লা বাড়ীর মরহুম আবদুল মতিন মোল্লার সন্তান। জুয়েলের বাবা আবদুল মতিন মোল্লা ২০০৫ সালে অসুস্থ হয়ে মারা যান। পেশায় ছিলেন ব্রিটিশ কাউন্সিলের গাড়িচালক। মা গৃহবধূ আমেনা বেগম। গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরে। খালাত ভাইয়ের সঙ্গে থাকে ঢাকার নতুন বাজারে। খালাত ভাই ইটের ব্যবসা করেন। তিনি জুয়েলেদের সাহায্য করেন। এছাড়া জুয়েলের মা একটা ছোটখাট চাকরি করে বনানীতে। জুয়েল বলেন ‘এভাবেই আমাদের সংসারটা চলছে। আমি চাই না মা কষ্ট করে চাকরি করুক। বড় বোন অসুস্থতার কারণে বেশিদূর খেলাপড়া করেনি। সে একটা টেইলার্সে কাজ করে। ছোটবোন পড়ছে ক্লাস সেভেনে। আমিও এইটে উঠে আর্থিক কারণে পড়াশুনা ছেড়ে দিই। তবে আবারও পড়াশুনার ইচ্ছা আছে। এবছর জুয়েল রানা অষ্টম শ্রেণীর অধীনে জেএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে।
জুয়েলের জল্পনা কল্পনা স্বপ্ন এখন টেনিস নিয়ে, তাই জুয়েল বলেন- বাংলাদেশের কোন খেলোয়াড়ই আজ পর্যন্ত এটিপির টুর্নামেন্টে খেলতে পারেনি। আমি হতে চাই সেই প্রথম খেলোয়াড়। কিন্তু এজন্য চাই সরকার ও ফেডারেশনের সুদৃষ্টি এবং সহযোগিতা। আমাদের দরকার স্পন্সর।’ এছাড়া জুয়েলের ভবিষ্যত লক্ষ্য দেশের এক নম্বর খেলোয়াড় হওয়া। সবশেষে তার ভাষ্য, ‘এদেশে কেউ ক্রিকেট ভাল খেললে তাকে নিয়ে মিডিয়াতে বেশি মাতামাতি হয়। কিন্তু অন্য খেলাগুলোতেও যখন খেলোয়াড় সাফল্য পায়, তখন তাদের নিয়ে এত হৈচৈ হয় না। এটা আমাকে কষ্ট দেয়। এমনটা হওয়া উচিত না।’

[মিডিয়া প্রচার করেনি তাতে কি, চলুন আপনি আমি পোষ্টটি বেশি বেশি শেয়ার করে জুয়েলের স্বপ্ন পূরণের সঙ্গী হয়ে যাই। ক্রিকেট প্লেয়ার জন্মদিন হলেতো হাজার হাজার লাইক কমেন্ট শেয়ারের বন্যা বয়ে যায়, আমরা কি পারিনা বাংলাদেশে টেনিসের এই বিষ্ময় বালক জুয়েল রানাকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে! শেয়ার করুন প্লিজ। কে জানে আপনার একটি শেয়ারে হয়তো জুয়েল অনুপ্রেরনা পাবে তার স্বপ্ন ছোয়ার পথে বাংলাদেশ টেনিসকে বিশ্বের দুয়ারে পৌছে দিতে।]

ধন্যবাদ।

শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদান্তেঃ
শরীফুল ইসলাম আরশ
জুয়েল রানা (চাচাতো ভাই)